চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পুর্ব পুঁইছড়ি এলাকায় পেকুয়ার ফ্যামিলি বাস্কেট নামীয় সুপার শপের মালামাল বিতরণের নামে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামশেদুল আলমকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি প্রতারণা জানতে পেরে আলমগীর নামে এ বিক্রয়কর্মীকে আটক করে দোষ স্বীকার পুর্বক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান ও আদায় করা হয়। এবং বাকীদের টাকা আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে অঙ্গীকার নামা প্রদান করে বলে জানা যায়। স্থানীয় ও বাঁশখালী প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর দক্ষিনের পার্শ্ববর্তী পেকুয়া উপজেলাধীন ফ্যামিলি বাস্কেট নামীয় একটি সুপার শপের আলমগীর নামে একজন বিক্রয় প্রতিনিধি ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের নামে প্রতিটি কার্ড ৬০০ টাকা মুল্যে বিক্রি করা অবস্থায় হাতে নাতে ধরেন পুঁইছড়ির ইউপি সদস্য মোছাম্মদ তানজিম। তিনি বিষয় বিষয়টি অবহিত করা হলে এবং আটক ব্যক্তিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ককাসবাজারের পেকুয়ার ফ্যামিলি বাস্কেট ৬০০ টাকায় একটি করে কার্ড বিক্রি করে। পাতে শর্ত থাকে যে, প্রতি মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ৫০০ টাকায় বিক্রি করা এবং পাওয়া যাবে। এ বিক্রয় প্রতিনিধি থেকে জব্দকৃত মাস্টার রোলে দেখা যায়, বাঁশখালীর পূর্ব পুঁইছড়িতে ২৫০ মানুষের কাছে এ কার্ড বিক্রি করা হলেও কেউ এখনও পর্যন্ত কোন পণ্য পাননি। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি এমএলএম(মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) এর আদলে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে, এ ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোন যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়নি। এ ধরণের ব্যবসা প্রতারণার শামিল। এ বিষয়টি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামশেদুল আলম পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠানটিকে এ ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে সাবধান করা হয়েছিল। পেকুয়ায় বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটি টইটং এর নিকটবর্তী পূর্ব পুইছড়ি এলাকায় তাদের এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। এটা অপরাধ মূলক কর্ম কান্ড হিসাবে বিবেচনা করে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিকে আমলে নিয়ে বিক্রয়কর্মী আলমগীরকে আটক করলে সে তার দোষ স্বীকার করে।পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান ও আদায় করা হয়। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারীকে ডেকে তার থেকে মুচলেকা নেয়া হয় এবং আগামী ৬ এপ্রিল তারিখের মধ্যে জব্দকৃত মাস্টাররোলে অন্তর্ভূক্ত সকলের টাকা ফেরত দেওযার শর্তে একটি মুচলেকা দেওয়া হয়। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামশেদুল আলম সকলকে এ ধরণের ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠান থেকে সাবধান থাকার জন্য অনুরোধ করেন, কেউ যাতে টাকা লেনদেন করে প্রতারনার স্বীকার না হয় ।