শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বাঁশখালীতে ধর্ম উপদেষ্টা ড.আফম খালিদ,ঈদগাও জানাযার মাঠের ব্যবস্থা করা হবে বাঁশখালীতে ৪১দিন জামাতে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পেল ১৭ শিশু-কিশোর বাঁশখালী পুঁইছড়িতে নাগরিক সমাজ – সতর্ক করলেন ভূমিদস্যুদের বাঁশখালীতে বিএনপির ইফতার মাহফিলে পাপ্পা ‘আগামীতে আপনাদের কে পাশে চাই’ বাঁশখালীর শীলকুপে বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাঁশখালীর পুঁইছড়িতে বাস্কেটের প্রতারনায়,৫৫ হাজার টাকা জরিমানা বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও আলোচনা সভা বাঁশখালী পৌরসভা বিএনপির ইফতার মাহফিল বাঁশখালীতে বৈলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল

পানির নিচে পশ্চিম বাঁশখালী,কাঁচা বাড়িঘর ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩
  • ২৬২ জন পড়েছেন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলার পশ্চিমাংশের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বেশ কিছু কাঁচা বাড়িঘর পানির ¯্রােতে ভেঙ্গে পড়েছে বলে জানা যায়। কয়দিনের প্রবল বর্ষনে একদিকে বঙ্গোপসাগর ও জলকদরখাল,শংখ নদীর অতিরিক্ত পানি জমায়েত হওয়া, অপরদিকে পাহাড় থেকে বাঁশখালীর ১০/১২ ছড়া হয়ে পানি নামতে থাকায় উপজেলা প্রশাসন সুত্রে মতে ১০ থেকে ১২ হাজার বাড়িঘর নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বলে জানা যায়। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১২/১৩ শত পুকুর ও বেশ কিছু মৎস্য ঘের ডুবে গেছে। পাহাড়ি ঢলে পৌরসদর জলদী, বৈলছড়ি, চাম্বল, শীলকুপ, কালীপুর, সাধনপুর এলাকায় নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শংখ নদী ও বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানি উঠে সাধনপুর,পুকুরিয়া,শীলকুপ, ছনুয়া, সরল.গন্ডামারা, শেখেরখীল, কাথরিয়া, খানখানাবাদ, বাহারছড়া,চাম্বল,পুইছড়ি এলাকায় ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়। বাঁশখালীর পুর্বে পাহাড় আর পশ্চিমে সাগর উপকুল হওয়াতে পুর্বের পাহাড়ি ঢলের সব পানি পশ্চিমে গিয়ে জমায়েত হওয়াতে রাস্তা ঘাট, পুকুর ডোবা সর্বত্র এখন পানিতে তই তই করছে। এছাড়া বাঁশখালীর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলকদর খালে ও প্রবল বর্ষনের ফলে অতিরিক্ত পানি জমায়েত হওয়াতে সহজে পানি নিচে নামতে পারছেনা। এছাড়া সমতল থেকে পানি খালে ও নদীতে নামার বেশ কিছু খালভার্ট থাকলে ও তা অধিকাংশ নষ্ট অকেজো বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা তাছাড়া এ প্রবল বর্ষনে বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবাহের নানা সমস্যা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেখা মিলছেনা বলে অভিযোগ করেন জনপ্রতিনিধিরা। এমনকি দুর্যোগকালীন সময়ে উপজেলা পরিষদের কোন গুরুপ্তপূর্ণ মিটিং ও তাদের কোন প্রতিনিধি আসেনা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন এলাকায় বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী ও সহকারি কমিশনার (ভুমি),র নেতৃত্বে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
শীলকুপের চেয়ারম্যান কায়েশ সরওয়ার সুমন বলেন, আমার ইউনিয়নে একদিকে পাহাড়ি ঢল অপরদিকে প্রবল বর্ষনের ফলে সর্বত্র পানি আর পানি।এমনকি আমার ইউনিয়ন পরিষদও জলমগ্ন রয়েছে বলে সে জানায়।
শেখেরখীল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম ফারুকী বলেন, আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। তাছাড়া জলকদর খালের কিছু ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কাজ চলমান থাকলেও বর্তমানে কাজ বন্ধ ও তাদের কোন কর্মকর্তাদের দেখা মিলছেনা।
সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কেএমসালাহ উদ্দিন কামাল বলেন, পাহাড়ি ঢল, শংখ নদীর ভাঙ্গন ও জোয়ারের স্ত্রোতে আমার এলাকায় বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম বৈলগাঁও এলাকায় পানি জমা থাকায় সাধারন জনগনের ভোগান্তি হচ্ছে।
বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে আমার ইউনিয়নে বেশ কিছু কাচাঁ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে সে জানান।
বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন,অতিরিক্ত পানি জমা থাকার কারণে আমার এলাকায় কিছু কাাঁচা ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে বলে সে জানান।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কয়দিনের প্রবল বর্ষনে বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, সরল, খানখানাবাদ, সাধনপুর, পুকুরিয়া সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১২/১৩ শত পুকুর ডুবে গেছে। এছাড়া বেশ কিছু মৎস্য ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে মৎস্যচাষী সুত্রে জানা বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন,বর্তমানে ১৮শত হেক্টর আউশ,৬৮০ হেক্টর আমন বীজ তলা, ৫৫০ হেক্টর গ্রীষ্ম কালীন সবজি, ২৫০ হেক্টর আগাম টমেটো ক্ষেত, প্রায় ২৫০ হেক্টর পেঁেপ ও আমন ক্ষেত পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। এ সব পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপম করা যাবে বলে তিনি জানান । তবে সবজি ক্ষেতের প্রচুর ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানান।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কয়দিনে প্রবল বর্ষনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চাষীরাসহ সব সেক্টরে। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আানার জন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করছে। পানি কমে গেলে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা সঠিকভাবে নিরুপম করা যাবে বলে তিনি জানান ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এই পোর্টালের কোনো লেখা বা ছবি ব্যাবহার দন্ডনীয় অপরাধ
কারিগরি সহযোগিতায়: ইন্টাঃ আইটি বাজার
kallyan
error: Content is protected !!