টানা বর্ষণ ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর ও বাঁশখালীর ১০০টি পরিবারকে আগাম আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘এ্যান্টিসিপেটরি এ্যাকশন ’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়। আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস বিশ্লেষণে ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘নো রিগ্রেট পলিসি’ অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৮ ও ৯ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ১০০টি পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।
বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ হলরুমে বৃহস্পতিবার বিকালে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রুহুল আমিন উপজেলার ৫০ পরিবারের মাঝে শর্তহীন নগদ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তিনি দুর্যোগ কালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ জনগনকে নগদ অর্থ সহায়তার জন্য ইপসা ও সেভদ্য চিলড্রেনকে ধন্যবাদ জানান।
চট্টগ্রাম ও বাঁশখালীতে সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এ সহায়তা সম্ভাব্য দুর্যোগের আগেই পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া, খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ এবং জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা করবে। পাহাড়ধসের পূর্বাভাস পাওয়ার পর প্রকল্পের কর্মকর্তা, কর্মী ও স্বে”ছাসেবকেরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
বর্তমানে প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চারটি পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ ৪টি ওয়ার্ড এবং বাঁশখালীর সাধনপুর, পুকুরিয়া, কালীপুর ও বৈলছড়ি এ ৪টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর আগেও এ প্রকল্পের আওতায় নগদ সহায়তা, হাইজিন কিট ও কিচেন কিটসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ইপসার প্রকল্প ম্যানেজার সানজিদা আক্তার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম পদক্ষেপ ও নগদ সহায়তা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সময়োপযোগী ও নিরাপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।”
