পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আস্করিয়া পাড়ায় দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় বাঁশখালী পৌরসভার কৃতি সন্তান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়ার নির্দেশনায়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের শাহ শফি মাওলানা আস্কর আলী শাহ (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে অবস্থিত জয়নালের নতুন বাড়িতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
আয়োজনের শুরুতে স্থানীয়ভাবে যাচাই-বাছাই ও নিরপেক্ষ তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকৃত অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫০০টি পরিবারের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
মানবিক ও সেবামূলক এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও মানবিক ব্যক্তিবর্গ সহযোগিতা করেন। তাদের সার্বিক সহায়তায় পুরো আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন বাঁশখালী পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জয়নাল আবেদীন। তার নেতৃত্বে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, যুবসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক কমিশনার আলহাজ্ব আমীর হোসেন বলেন, “ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, সাম্য ও মানবতার চর্চা। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে।
ড. মোহাম্মদ জকরিয়ার উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও এগিয়ে আসবেন।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দ সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল দাতা, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, “এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়।”
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রবিউল আলম এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, মোঃ জয়নাল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তিনি দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ ও দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার বাঁশখালী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ঈদের আনন্দকেই অর্থবহ করে তোলে না, বরং সমাজে মানবতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
