চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির (ডিএমসি) মনোনীত সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী সিমুলেশন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ বুধবার বিকালে সম্পন্ন হয়েছে। ৬ ও ৭ অক্টোবর বাঁশখালী উপজেলার চাম্বলে হোসাইনিয়া কনভেনশন হলে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং ইউনিসেফ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তায় সমন্বিত প্রশিক্ষণ মডিউলের মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের এর লক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন প্রশিক্ষণটি আয়োজন করে। এতে সহায়তা দেয় ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস), আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অফ রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস, ইউএনএফপিএ, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, সেইভ দ্যা চিলড্রেন, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইসলামিক রিলিফ, নোরকাপ, ও স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন সংস্থা ইপসা। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং মানবিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে প্রণীত ‘সিমুলেশন-ভিত্তিক সমন্বিত প্রশিক্ষণ মডিউল’ অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা কৃষি দপ্তর, প্রাণিসম্পদ দপ্তর, মৎস্য, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, সমাজসেবা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা,মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, খাদ্য, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের প্রতিনিধিসহ আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)র প্রতিনিধি। স্থানীয় পর্য য়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা ইপসা, ব্র্যাক, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, হীড বাংলাদেশ, প্রশিকা, দিশারী, কারিতাস ও যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও প্রশিক্ষণে যোগ দেন।
প্রশিক্ষণে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, প্রস্তুতি, আগাম কার্যক্রম (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পর্কিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে হাতে কলমে অনুশীলন করানো হয়। বিভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দপ্তরের ভূমিকা পালন করেন এবং দ্রুত ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য আদান প্রদান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার চর্চা করেন। অনুশীলন শেষে ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’-এর মাধ্যমে বিদ্যমান ব্যবস্থার সক্ষমতা, ও ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়। ঘাটতি পূরণে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রুহুল আমিন বলেন, “বাঁশখালী একটি উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ উপজেলা। এই প্রশিক্ষণে কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্ব হাতে কলমে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন। প্রশিক্ষণে তৈরি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিয়ে কাজ করবে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সদর দপ্তরের সাথে যোগাযোগের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে জানানো হবে।”
প্রশিক্ষণ কালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো নাসির উদ্দিন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপসচিব পদমর্যাদায় উপপরিচালক মো কাজী বদিউজ্জামান বলেন, “সারা দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে একই মানের, বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা আমাদের লক্ষ্য। বাঁশখালীর প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা সেই কাজে সহায়ক হবে।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে যুগোপযোগী করে তুলতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ইউনিসেফ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং ২০টির বেশি মানবিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা যৌথভাবে সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্যাকেজটি তৈরি করে।
পর্যায়ক্রমে দেশের ৭টি বিভাগের ২৫টি জেলা ও ১০৪টি উপজেলায় এই প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার আওতায় সর্বোচ্চ ৫,০০০ জন কমিটি সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও মানবিক সহযোগীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাঁশখালীর প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া শিক্ষা পরবর্তী ধাপের প্রশিক্ষণ আয়োজনে কাজে লাগানো হবে। সমাপনী অনুষ্টানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়। এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ নাসির উদ্দিন ,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপসচিব পদমর্যাদায় উপপরিচালক মো কাজী বদিউজ্জামান, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ফিল্ড অফিসের প্রধান বা চিফ অব ফিল্ড অফিস মাধুরী ব্যানার্জী,বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালক এমএম আলমগীর( কর্ণেল অবঃ) প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।
