1. kallyanbarua@yahoo.com : kallyan : ajker banshkhali
  2. aygadmin@ajkerbanshkhali.com : :
  3. wpsupp-user@word.com : wp-needuser : wp-needuser
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বাঁশখালী গোল্ড মেডেল মেধাবৃত্তির পুরস্কার বিতরণ জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেন বাঁশখালীর মডেল সরকারি ও প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাঁশখালী‌তে ইসলামী স্বপ্ন বাস্তবায়ন সংস্থার ১৬ বছর পূর্তি, স্মৃতি পাঠাগার উদ্বোধন ও ঈদ পূর্ণ মিলনী হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ভূতের বারো পুত বাঁশখালী পৌরসভায় ঈদুল আজহায় অসহায় পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ জাপানের নিগাতা শহর ও Rissho Kosei-kai-এর প্রতিষ্ঠাতা বাঁশখালী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে ভুষিত হলেন যারা বাঁশখালীতে সিপিপির টিম লিডারদের দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত বামেরছড়া ও ডানেরছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা

জাপানের মিনোবুসান কুওনজি মন্দির

কল্যাণ বড়ুয়া,জাপান থেকে ফিরে
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ১৯৩ জন পড়েছেন

মিনোবুসান কুওনজি মন্দির জাপানের ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের মিনোবু পাহাড়ে অবস্থিত একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দির। এটি ফুজিয়ামা বা Mount Fuji এর পশ্চিম পাশে অবস্থিত এবং নিছিরেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান মন্দির হিসেবে পরিচিত।
মন্দিরটি ১২৭৪ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষু নিছিরেন শোনিন প্রতিষ্ঠা করেন। জাপানে নিছিরেন বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে এই মন্দিরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এখানে তাঁর সমাধিও রয়েছে এবং প্রতিবছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও পর্যটক এই স্থান পরিদর্শনে আসেন।
মিনোবু পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত এই মন্দিরে প্রবেশের অন্যতম আকর্ষণ হলো “বোদাইতেই” নামে পরিচিত ২৮৭টি পাথরের সিঁড়ি। অনেকেই এটিকে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রতীক হিসেবে দেখেন।
মন্দির চত্বরে রয়েছে বিশাল কাঠের স্থাপনা, শতবর্ষী সিডার গাছ, ঐতিহ্যবাহী প্রার্থনা কক্ষ এবং পাহাড়চূড়ায় যাওয়ার রোপওয়ে। পাহাড়ের উপরে উঠে পরিষ্কার আবহাওয়ায় ফুজি পর্বতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। বিশেষ সময়ে এখান থেকে “ডায়মন্ড ফুজি” দৃশ্যও দেখা যায়, যখন সূর্য ফুজি পর্বতের চূড়ার সাথে এক সরলরেখায় অবস্থান করে।
এলাকাটিতে বহু “শুকুবো” বা বৌদ্ধ অতিথিশালা রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা জাপানি সন্ন্যাসীদের জীবনধারা অনুভব করতে পারেন। ভোরের প্রার্থনা, নিরামিষ বৌদ্ধ খাবার এবং শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
যাতায়াতের জন্য টোকিও থেকে ট্রেন বা গাড়িতে মিনোবু যাওয়া যায়। JR Minobu Station থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে সরাসরি কুওনজি মন্দিরে পৌঁছানো যায়।

জাপানের ফুজিয়ামা বা মাউন্ট ফুজির পাদদেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির ও শিন্তো উপাসনালয়। শত শত বছর ধরে এসব মন্দির শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থানই নয়, বরং জাপানের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পাহাড়ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ, কাঠের কারুকাজখচিত স্থাপত্য ও ধ্যানমগ্ন পরিবেশ যে কাউকে মুহূর্তেই মুগ্ধ করে।
ঐতিহ্যবাহী জাপানি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। দূরে সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মন্দিরটি যেন জাপানের শতবর্ষের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে পাথরের তৈরি প্রাচীন প্রদীপ, নান্দনিক ছাদ ও সুপরিকল্পিত বাগান, যা জাপানি সংস্কৃতির সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলার প্রতিচ্ছবি বহন করে।
মন্দিরের অভ্যন্তরে ঝাড়বাতি ও সোনালি অলংকরণে সাজানো উপাসনালয় বৌদ্ধ ধর্মের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরে। সেখানে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর সঙ্গে তোলা ছবিটি জাপানের ধর্মীয় সহনশীলতা ও আন্তরিক আতিথেয়তার দিকটিও প্রকাশ করে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে ধ্যান, প্রার্থনা ও আত্মিক প্রশান্তির অনুভূতি লাভ করেন।
জাপানের অনেক মন্দিরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময় থেকে টিকে আছে। কাঠের তৈরি এসব স্থাপনা নিয়মিত সংস্কার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে আজও তাদের প্রাচীন রূপ ধরে রেখেছে। স্থানীয় মানুষজনের কাছে এসব মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক।
ফুজিয়ামার আশপাশের এই মন্দিরগুলোতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ভিড় করেন। বিশেষ করে বসন্তকালে চেরি ফুল ফোটার সময় এবং শরতে পাহাড়ের পাতার রঙ বদলের মৌসুমে এখানকার সৌন্দর্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এই পোর্টালের কোনো লেখা বা ছবি ব্যাবহার দন্ডনীয় অপরাধ
ডিজাইন করেছেন ilmCode Technologies